Academy

গড়াই নদীর তীরে, 

কুটীরখানিরে লতাপাতা ফুল মায়ায় রয়েছে ঘিরে। 

বাতাসে. হেলিয়া, আলোতে খেলিয়া সন্ধ্যা সকালে ফুটি, 

উঠানের কোণে বুনো ফুলগুলি হেসে হয় কুটি কুটি। 

মাচানের 'পরে সিম-লতা আর লাউ-কুমড়ার ঝাড়, 

আড়াআড়ি করি দোলায় দোলায় ফুল ফল যত যার।

Created: 8 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

পাখির কাছে ফুলের কাছে

পাখির কাছে ফুলের কাছে
আল মাহমুদ

নারকেলের ঐ লম্বা মাথায় হঠাৎ দেখি কাল
ডাবের মতো চাঁদ উঠেছে ঠান্ডা ও গোলগাল।
ছিটকিনিটা আস্তে খুলে পেরিয়ে গেলাম ঘর
ঝিমধরা এই মস্ত শহর কাঁপছিলো থরথর।
মিনারটাকে দেখছি যেন দাঁড়িয়ে আছেন কেউ,
পাথরঘাটার গির্জেটা কি লাল পাথরের ঢেউ?
দরগাতলা পার হয়ে যেই মোড় ফিরেছি বাঁয়
কোথেকে এক উটকো পাহাড় ডাক দিলো আয় আয়।

পাহাড়টাকে হাত বুলিয়ে লালদিঘির ঐ পাড়
এগিয়ে দেখি জোনাকিদের বসেছে দরবার।
আমায় দেখে কলকলিয়ে দিঘির কালো জল
বললো, এসো, আমরা সবাই না-ঘুমানোর দল-
পকেট থেকে খোলো তোমার পদ্য লেখার ভাঁজ
রক্তজবার ঝোঁপের কাছে কাব্য হবে আজ।
দিঘির কথায় উঠল হেসে ফুল পাখিরা সব
কাব্য হবে, কাব্য কবে-জুড়লো কলরব।
কী আর করি পকেট থেকে খুলে ছড়ার বই
পাখির কাছে, ফুলের কাছে মনের কথা কই।

Content added By

Related Question

View More

আমার পঠিত 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় রক্তজবার ঝোপের কাছে আজ কাব্য হবে।

করি আল মাহমুদের দৃষ্টিতে প্রকৃতির সাথে মানুষের পরম আত্মীয়তার সম্পর্ক বিদ্যমান।

'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় কবির নিসর্গপ্রেম গভীর মমত্বের সঙ্গে ফুটে উঠেছে। কবি প্রকৃতির বিচিত্র সৌন্দর্যের কাছে যেতে চান, তাদের সঙ্গে মিশে যেতে চান। কবির দৃষ্টিতে প্রকৃতি যেন মানুষের পরম আত্মীয়।

কবিতাংশ দুটিতে পল্লি-প্রকৃতির বিচিত্র রূপ ফুটে উঠেছে।

প্রকৃতির বিচিত্র রূপ পরিলক্ষিত হয় এই পৃথিবীতে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষ আত্মীয়তার সম্পর্ক অনুভব করে। প্রকৃতি নানাভাবে মানুষের মনকে প্রভাবিত করে।

উদ্দীপকের প্রথম অংশে কবি পরম মমতায় পল্লি-প্রকৃতির রূপ বর্ণনা করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে লালদিঘির পাড় ঘেঁষেই পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে। তার একটু সামনে এগুলেই থোকায় থোকায় জোনাক পোকা দেখা যায়। আর দিঘির কালো জল যেন কলকলিয়ে কবির সঙ্গে কথা বলে। উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশের কবিতাংশেও পল্লি-প্রকৃতির রূপ ফুটে উঠেছে। সেখানে দেখা যায় বাঁশবাগান, তার মাঝখান দিয়ে আধখানা চাঁদ ঝুলে রয়েছে। ঝোপঝাড়ে জোনাকিরা আলো জ্বেলে ঘুরে বেড়ায়।

'কবিতাংশ দুটিতে কবিদ্বয়ের নিসর্গ-প্রেম ফুটে উঠেছে'-উক্তিটি যথার্থ।

প্রকৃতির আশ্রয়ে মানুষ বেড়ে ওঠে। প্রকৃতি নানাভাবে মানুষকে সাহায্য করে। কখনো আনন্দের কখনো দুঃখের সাথি হয় প্রকৃতি। আবার নতুন কোনো কাজের উৎসাহও মানুষ প্রকৃতির কাছ থেকে পেয়ে থাকে।

উদ্দীপকের প্রথম কবিতাংশে কবি পল্লি-প্রকৃতির বিচিত্র রূপ সযত্নে বর্ণনা করেছেন। প্রকৃতির প্রতি গভীর মমত্ববোধ থেকেই কবি প্রকৃতির - রূপ উপস্থাপন করেছেন। লালদিঘির পাড়ে পাহাড়, জোনাক পোকার দল, দিঘির কালো জলের শব্দ- সবকিছু প্রকাশেই কবির নিসর্গপ্রেম ফুটে উঠেছে।

উদ্দীপকের দ্বিতীয় কবিতাংশেও কবি' নিসর্গের বর্ণনা দিয়েছেন। বাঁশবাগান, চাঁদ, জোনাক পোকার আলো জ্বেলে ঘুরে বেড়ানো এগুলো কবির নিসর্গপ্রেমকেই প্রকাশ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কবিতাংশ দুটিতে কবিদ্বয়ের নিসর্গপ্রেম ফুটে উঠেছে। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।

কবি 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় নিসর্গপ্রেম বলতে প্রকৃতির প্রতি তাঁর মমত্ব ও প্রেমের কথা বুঝিয়েছেন।

বাংলাদেশের লোকজ জীবন ও পল্লিপ্রকৃতি আল মাহমুদের কবিতার প্রাণ। পল্লির স্নিগ্ধ-শ্যামল রূপ তাঁর কবিতায় সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। কবি প্রকৃতির বিচিত্র সৌন্দর্যের কাছে যেতে চান, তাদের সঙ্গে মিশে যেতে চান। 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় কবির এই নিসর্গপ্রেমের প্রগাঢ় পরিচয় পাওয়া যায়।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...